তারাবিহ নামাজের নিয়ম ও ফজিলত – রাকাত সংখ্যা, দোয়া ও বিধান

 রমজান মাসে তারাবিহ নামাজ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। এটি নবীজি (সা.)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত, যা রমজানের প্রতিটি রাতে এশার নামাজের পর আদায় করা হয়।

এই পোস্টে আলোচনা করা হবে –

  • তারাবিহ নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত
  • তারাবিহ নামাজ কয় রাকাত
  • তারাবির নামাজ পড়ার সঠিক নিয়ম
  • তারাবির দোয়া ও বিধান
তারাবিহ নামাজের নিয়ম ও ফজিলত

তারাবিহ নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত

হাদিসে এসেছে:

 “যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রমজানে তারাবিহ নামাজ আদায় করবে, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।” (বুখারি, ৩৭)

এই নামাজ রাতের নফল ইবাদতের মধ্যে অন্যতম সেরা আমল।
তারাবিহ নামাজ রমজানের অন্যতম বরকতময় ইবাদত, যা আত্মশুদ্ধির একটি মাধ্যম।

তারাবিহ নামাজ কয় রাকাত?

তারাবিহ নামাজের রাকাত সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন মতামত রয়েছে। তবে হাদিসের আলোকে দুটি প্রচলিত মত পাওয়া যায় –

1. ৮ রাকাত (৪ সালাম) – অনেকে নবীজির (সা.) আমল অনুসারে ৮ রাকাত পড়েন।
2. ২০ রাকাত (১০ সালাম) – সাহাবাদের যুগ থেকে মক্কা-মদিনার মসজিদে ২০ রাকাত তারাবিহ আদায় করা হয়।

 সর্বোচ্চ ২০ রাকাত পর্যন্ত পড়া যায়, তবে ৮ রাকাতও জায়েজ।

তারাবিহ নামাজ পড়ার নিয়ম (Step-by-Step)

১. নিয়ত করা

তারাবিহ নামাজ শুরু করার আগে নিয়ত করতে হবে।

উচ্চারণ:
“উছল্লি সুডনাতাল তারাবিহি রাকআতাইনি লিল্লাহি তা’আলা”
অর্থ: আমি দুই রাকাত তারাবিহ নামাজ পড়ার নিয়ত করছি আল্লাহ তাআলার জন্য।

 প্রতি দুই রাকাত শেষে সালাম ফেরাতে হয়।

২. এশার নামাজের পর তারাবিহ শুরু করুন

তারাবিহ নামাজ এশার ফরজ ও সুন্নাত নামাজের পর আদায় করতে হয়।
  •  দুই রাকাত করে ৮, ১০ বা ২০ রাকাত পড়া যায়।
  •  প্রতি দুই রাকাত পর সালাম ফেরাতে হয়।



৩. তারাবিহ নামাজের দোয়া (প্রতি চার রাকাত পর)

তারাবিহ নামাজের প্রতি ৪ রাকাত পর একটি বিশেষ দোয়া পড়া হয়:

আরবি:
اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَنَا

উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়া বিহামদিকা, আল্লাহুম্মাগফির লানা।

অর্থ:
হে আল্লাহ! হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা তোমার প্রশংসা করছি। হে আল্লাহ! আমাদের ক্ষমা করো।

 এই দোয়া পড়া সুন্নাত, তবে না পড়লেও সমস্যা নেই।

৪. তারাবিহের পর বিতর নামাজ আদায় করুন

তারাবির নামাজের পর ৩ রাকাত বিতর নামাজ পড়া সুন্নাত।

 বিতর নামাজ পড়ার আগে কিছু সময় নফল ইবাদত করা যেতে পারে।

তারাবিহ নামাজ পড়ার ১০টি গুরুত্বপূর্ণ আদব


১. নিয়মিত এশার জামাতের সাথে তারাবিহ পড়া
২. খুশু-খুজুর (মনোযোগ সহকারে) নামাজ পড়া
৩. কুরআনের দীর্ঘ তিলাওয়াত শোনা
৪. তারাবিহ শেষে দোয়া করা
৫. অন্যদের তারাবিহ পড়তে উৎসাহিত করা
৬. মসজিদে জামাতে নামাজ পড়ার চেষ্টা করা
৭. ঘরে পড়লেও সঠিক নিয়ম মেনে পড়া
৮. তাড়াহুড়ো না করা
৯. সুন্নত মোতাবেক আমল করা
১০. তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ত রাখা

তারাবিহ নামাজের বিশেষ ফজিলত ও উপকারিতা

  • রমজানের বরকত লাভ করা যায়।
  • গুনাহ মাফ হয় ও জান্নাতের পথ সুগম হয়।
  • কুরআন তিলাওয়াত শোনার সুযোগ হয়।
  • মানসিক প্রশান্তি ও আত্মার পরিশুদ্ধি ঘটে।
  • তারাবিহ পড়লে শারীরিক ফিটনেসও বজায় থাকে।

তারাবিহ নামাজ রমজানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল। এটি আদায় করলে গুনাহ মাফ হয় এবং বিপুল সওয়াব লাভ করা যায়। তাই সঠিক নিয়মে তারাবিহ পড়া এবং নিয়মিত এই ইবাদতে অংশগ্রহণ করা উচিত।





*

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন