রোজার নিয়ত ও দোয়া – আরবি উচ্চারণ, অর্থ ও সহীহ পদ্ধতি

রমজান মাস আল্লাহর রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এই মাসে রোজা রাখা ফরজ, যা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম। রোজার শুরু করার জন্য সহীহ নিয়ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, নিয়ত ছাড়া কোনো ইবাদত গ্রহণযোগ্য হয় না।

এই আর্টিকেলে আলোচনা করা হবে –

  •  রোজার সহীহ নিয়ত ও দোয়া (আরবি উচ্চারণ ও বাংলা অর্থসহ)
  •  রমজানের ফরজ, নফল ও কাযা রোজার নিয়ত
  •  শাবান মাস ও শাওয়াল মাসের রোজার নিয়ত
  •  রোজার নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ মাসায়েল
রোজার নিয়ত ও দোয়া – আরবি উচ্চারণ ও বাংলা অর্থ

রোজার নিয়ত কেন গুরুত্বপূর্ণ?

নিয়ত মানে হলো ইবাদতের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করা। হাদিসে এসেছে –

 “নিয়তের ওপর আমলের ফল নির্ভর করে” (বুখারি: ১, মুসলিম: ১৯০৭)

রোজার নিয়ত মনে করলেই হয়, মুখে বলা আবশ্যক নয়। তবে  করলে ইবাদতে একাগ্রতা বৃদ্ধি পায়।

ফরজ রোজার নিয়ত ও দোয়া (রমজান মাসের জন্য)

রোজার নিয়ত (আরবি উচ্চারণ):
وَبِصَوْمِ غَدٍ نَّوَيْتُ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ
 বাংলা উচ্চারণ:
“ওয়া বিসাওমি গাদিন নাওয়াইতু মিন শাহরি রমাদান।”

বাংলা অর্থ:
আমি আগামীকাল রমজানের রোজা রাখার নিয়ত করলাম।

নিয়ত করার সঠিক সময়:
সেহরির সময় বা সুবহে সাদিকের আগে রোজার নিয়ত করতে হয়।

যদি কেউ সেহরি খাওয়া ভুলে যায়, তবুও সুবহে সাদিকের আগে নিয়ত করে নিতে হবে।

নফল রোজার নিয়ত ও দোয়া


নফল রোজার নিয়ত ফজরের আগেও করা যায়, আবার দিনের মধ্যেও করা যায়, যদি কোনো খাবার বা পানি পান না করে থাকেন।

নফল রোজার নিয়ত (আরবি উচ্চারণ):
نَوَيْتُ صَوْمَ يَوْمٍ لِلّٰهِ تَعَالٰى

 বাংলা উচ্চারণ:
নাওয়াইতু সাওমা ইয়াওমিন লিল্লাহি তা'আলা।”

 বাংলা অর্থ:
আমি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য আজ নফল রোজা রাখার নিয়ত করলাম।
কাযা রোজার নিয়ত ও দোয়া

যদি কেউ অসুস্থতা, সফর বা অন্য কোনো কারণে রমজানের রোজা রাখতে না পারেন, তাহলে পরবর্তীতে কাযা রোজা রাখতে হয়।

 কাযা রোজার নিয়ত (আরবি উচ্চারণ):

نَوَيْتُ صَوْمَ غَدٍ عَنْ قَضَاءِ رَمَضَانَ لِلّٰهِ تَعَالٰى

বাংলা উচ্চারণ:
নাওয়াইতু সাওমা গাদিন আন ক্বাদায়ি রমাদানা লিল্লাহি তা'আলা।

বাংলা অর্থ:
আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রমজানের কাযা রোজা রাখার নিয়ত করলাম।

শাবান ও শাওয়াল মাসের রোজার নিয়ত ও দোয়া


 শাবান মাসের রোজার নিয়ত:

শাবান মাসে রোজা রাখা সুন্নত। নবী করিম (সা.) শাবান মাসে সবচেয়ে বেশি নফল রোজা রাখতেন (বুখারি, মুসলিম)।

নিয়ত একই:
نَوَيْتُ صَوْمَ يَوْمٍ لِلّٰهِ تَعَالٰى

(আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আজ নফল রোজা রাখার নিয়ত করলাম।)


শাওয়াল মাসের ছয় রোজার নিয়ত:


রমজান মাসের পর শাওয়াল মাসে ৬টি নফল রোজা রাখা খুবই ফজিলতপূর্ণ।

হাদিসে এসেছে –

যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল এবং এরপর শাওয়ালের ৬টি রোজা রাখল, সে যেন পুরো বছরের রোজা রাখল।” (মুসলিম: ১১৬৪)

নিয়ত একই:
نَوَيْتُ صَوْمَ يَوْمٍ لِلّٰهِ تَعَالٰى

(আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আজ নফল রোজা রাখার নিয়ত করলাম।)

রোজার দোয়া (ইফতারের সময়)


হাদিস অনুযায়ী, রোজাদারের দোয়া আল্লাহ কবুল করেন। ইফতারের সময় দোয়া পড়া সুন্নত।

ইফতারের দোয়া (আরবি উচ্চারণ):


اللهم لك صمتُ، وبك آمنتُ، وعلى رزقِك أفطرتُ

বাংলা উচ্চারণ:

আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু, ওয়া বিকা আমানতু, ওয়া আলা রিজক্বিকা আফতারতু।”

বাংলা অর্থ:

হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্য রোজা রেখেছি, তোমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি, এবং তোমার দেওয়া রিজিক দিয়ে ইফতার করছি।

রোজার মাসায়েল (গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম)


যে কাজগুলো রোজা ভঙ্গ করে:

খাবার বা পানীয় খাওয়া

ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করা

হায়েজ-নেফাস (মহিলাদের মাসিক)


যে কাজগুলো রোজা নষ্ট করে না:

অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি হলে

মিসওয়াক করা বা ব্রাশ করা

চোখে বা কানে ওষুধ দেওয়া


রোজার সময় সুগন্ধি বা আতর ব্যবহার করা যাবে কিনা?
হ্যাঁ, করা যাবে। তবে ধূম্র বা স্প্রে জাতীয় কিছু নাকে গেলে রোজা ভেঙে যেতে পারে।

রোজা রাখার জন্য সহীহ নিয়ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রমজানের ফরজ রোজা, নফল রোজা, কাযা রোজা ও শাওয়ালের ছয় রোজার জন্য সঠিক নিয়ত জানা জরুরি। এছাড়া, ইফতারের দোয়া পড়ার ফজিলত অনেক বেশি।

আপনি কী নিয়মিত রোজা রাখেন? আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানান!





*

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন