রমজান মাসের শেষ জুমার গুরুত্ব ও ফজিলত – বিশেষ আমল ও দোয়া

রমজানের শেষ জুমার দিন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? আল কুরআন ও হাদিসের আলোকে রমজানের শেষ শুক্রবারের ফজিলত, করণীয় আমল ও বিশেষ দোয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।

রমজানের শেষ জুমা বা জুমাতুল বিদা একটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ দিন। এটি রমজান মাসের শেষ শুক্রবার, যা মুসলিম উম্মাহর জন্য বিশেষ রহমত ও বরকতের দিন।

এই পোস্টে থাকছে:

রমজানের শেষ জুমার গুরুত্ব ও ফজিলত

আল কুরআন ও হাদিস অনুযায়ী জুমাতুল বিদার মর্যাদা

শেষ জুমার দিন করণীয় আমল ও দোয়া

রমজানের শেষ শুক্রবারের বিশেষ নামাজ ও ইবাদত।

রমজান মাসের শেষ জুমার গুরুত্ব ও ফজিলত

রমজানের শেষ জুমার গুরুত্ব ও ফজিলত

জুমাতুল বিদা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

  • রমজানের শেষ শুক্রবার আল্লাহর কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ।
  • এই দিনে গুনাহ মাফের সুযোগ থাকে।
  • রমজানের শেষ জুমা বিদায়ের বার্তা নিয়ে আসে, তাই এ দিন বেশি বেশি ইবাদত করা উচিত।
  • এই দিনকে “মাগফিরাতের দিন” বলা হয়, কারণ আল্লাহ এই দিনে তাঁর বান্দাদের ক্ষমা ও দয়া করেন।

 হাদিস:

“জুমার দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে, যখন কোনো মুসলমান বান্দা আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে, তিনি তা কবুল করেন।” (বুখারি: ৯৩৫, মুসলিম: ৮৫২)

 আরেকটি হাদিস:

“জুমার দিন সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন। এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং কিয়ামতও এই দিনেই সংঘটিত হবে।” (তিরমিজি: ৪৮৭)

রমজানের শেষ জুমার করণীয় আমল ও ইবাদত

১. ফজরের নামাজের পর বিশেষ দোয়া করুন

ফজরের নামাজের পর কিছুক্ষণ কুরআন তিলাওয়াত করুন।

এই দোয়াটি বেশি বেশি পড়ুন:

اللهم إنك عفو تحب العفو فاعف عني

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফা'ফু আন্নি।

অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল, তুমি ক্ষমা করতে ভালোবাসো, আমাকে ক্ষমা করে দাও।


২. বেশি বেশি দরুদ শরীফ পড়ুন

اللهم صل على محمد وعلى آل محمد

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলা আলে মুহাম্মাদ।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ও তাঁর পরিবারকে বরকত দান করুন।


আরও পড়ুন ঃ ঈদের আগের রাতে করণীয় ইবাদত ও আমল – বিশেষ দোয়া ও নামাজ


রমজানে শবে কদরের ফজিলত ও করণীয় ইবাদত – লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব


 ৩. জুমার দিন বেশি বেশি তাসবিহ ও জিকির করুন

সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার এই তাসবিহগুলো পড়ুন।

"লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ" বেশি বেশি পড়ুন।


৪. সূরা কাহাফ তিলাওয়াত করুন

“যে ব্যক্তি জুমার দিনে সূরা কাহাফ পড়বে, তার জন্য এক সপ্তাহ আলোকিত থাকবে।” (মুসলিম: ১৮৭০)


৫. নফল নামাজ আদায় করুন

২ বা ৪ রাকাত নফল নামাজ পড়তে পারেন।

প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার পর সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়তে পারেন।


৬. দান-সদকা করুন

এই দিনে গরীব ও অসহায়দের সাহায্য করুন।

ফিতরা পরিশোধ করুন, যদি এখনো না দিয়ে থাকেন।


৭. পরিবারের জন্য দোয়া করুন

নিজের জন্য, পরিবারের জন্য ও সমগ্র উম্মাহর জন্য দোয়া করুন।

বিশেষ দোয়া:

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

উচ্চারণ: রব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাহ, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাহ, ওয়া ক্বিনা আজাবান্নার।

অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন, আখিরাতে কল্যাণ দান করুন এবং জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।


জুমাতুল বিদার বিশেষ দোয়া ও নামাজ

বিশেষ নফল নামাজ:

২ বা ৪ রাকাত নফল নামাজ পড়তে পারেন।

প্রতিটি রাকাতে সূরা ফাতিহার পর ১০ বার সূরা ইখলাস পড়লে অসংখ্য সওয়াব লাভ হয়।


বিশেষ দোয়া:

اللهم اجعل آخر أعمالنا خيراً، واختم لنا بالحسنى

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাজআল আখিরা আমালিনা খাইরান, ওয়াখতিম লানা বিল হুসনা।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমাদের শেষ আমলগুলোকে কল্যাণময় করুন এবং আমাদের পরিণতি যেন উত্তম হয়।


আখেরি মোনাজাত:

জুমার নামাজের পর ইমামের সাথে আখেরি মোনাজাতে অংশ নিন।

দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করুন।


রমজানের শেষ জুমা আমাদের জন্য ক্ষমা, রহমত ও নাজাতের এক মহাসুযোগ। তাই আমাদের উচিত এই দিনের ফজিলতকে কাজে লাগিয়ে বেশি বেশি ইবাদত, দোয়া ও কুরআন তিলাওয়াত করা।


রমজানের শেষ দশকে ইতেকাফের নিয়ম ও ফজিলত – করণীয় ও বিধান


রমজান মাসের বিশেষ আমল – রোজার ফজিলত ও করণীয় | ইসলামিক দোয়া ও ইবাদত

*

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন